বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫

ডাকসু থে‌কে শুরু হোক আযাদী [আজহারুল ইসলাম সোহাগ]



‌ভোটেই হ‌য়ে‌ছি বিজয় আমরা এটা ভা‌বি না,

মা‌লেক ভাই এর র‌ক্তে আজ ফুল ফু‌টে‌ছে।

তার সুবাস পে‌য়ে‌ছে জা‌তি।


সে গ্রা‌ণে আজ পাগলপারা গোটা দে‌শের জন,

মাকাল ফ‌লের গন্ধ খো‌জে বিপরীত যার মন।

আমরা তা‌দেরও সুবাস বিলায় মন ক‌রে উজার,

এসো স‌বে দেশটা গ‌ড়ি সোনাই মোরা পাহাড়।


যে দে‌শে‌তে একটা ছে‌লেও থাক‌বে না আর হীন,

অমুক নেতা, তমুক নেতা, এ সভ‌্যতার হোক লীন।

চোখ রা‌ঙ্গি‌য়ে কথা বলার দিন যে হ‌বে শেষ,

নেতার চো‌খে তা‌কি‌য়ে র‌বে ভ‌য়ের না‌হি লেশ।


এখন এমন একটা স্বপ্ন মো‌দের হে জা‌তির পা‌ঞ্জেরী

সব কিছু‌তেই দেশটা বড়, এমন সব হ‌বে মুন্জুরী।

নিপাত যা‌বে নিপাত যাওয়ার মত যত দোষকারী,

পাল উড়িয়ে দাড় ধ‌রো ভাই, বৈঠা হ‌তে কান্ডারী।


এগি‌য়ে চলার এইত সময় ঝান্ডা হা‌তে সম্মু‌খে,

থর থর বু‌কে কাপন যারা রাজনী‌তে ভাত মা‌খে।

যা খে‌য়েছ চু‌কি‌য়ে ফেলো, কর্ম খো‌জে বের ক‌রো,

লেজ গো‌টি‌য়ে পথ ম‌াপো, নই দে‌শের জন‌্য হাল ধ‌রো।


আযাদী আযাদী, ভয় ভীতি সব নিপাত যাক,

আমরা সবাই বাচ‌বো এখন, আর যা‌বে না কাটা নাক।

বিশ্বদ্ব‌ারে উচ্চ ক‌রে, শীর নোয়াবার নেই সময়,

আমরাই যে বোনব মালা আগামীর দি‌নের বিশ্বজয়।

মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫

আমা‌দের ঘর [আজহারুল ইসলাম সোহাগ]

                                       আমা‌দের ঘর কবিতা , আজহারুল ইসলাম সোহাগ, Azharul Islam Sohag



আঠা‌রো বছর ধ‌রে এভাবে ঠাই দা‌ড়ি‌য়ে,
‌যে মানুষগু‌লো আমায় রে‌খে চ‌লে গে‌ল,
সে থে‌কে অনাদ‌রে অব‌হেলায়।
আমার জীর্ণতার ছাপ গু‌লো একে একে,
বে‌ড়ি‌য়ে আস‌ছে অব‌লিলায়,
শীর্ন হ‌চ্ছে চামড়া আর বাহুমূল।
এরপরও ঠাই দা‌ড়ি‌য়ে জরাজীর্নতা নি‌য়ে।
তা‌দের অনেক জ্ঞা‌তিজন এলো গে‌লো,
আ‌মি যে সে  অনাদ‌রেই,
এর পরও ভাল লা‌গে য‌বে আ‌সে,
তা‌দের কেহ আমায় ঘি‌রে।
তখন হয়ত বল ফি‌রে পাই এ বাহুমূ‌লে,
বড় কর্তা গত হবার পর,
‌তোমরা সক‌লে আমায় রে‌খে চ‌লে গে‌লে,
ইট পাথ‌রে ঘেরা দূর শহ‌রের
এর পর থে‌কে আ‌মি একা নিঃসঙ্গ।

বড় রাঙ্গামা‌টিয়, সাভার
১৯ আশ্বিন ১৪২৬

মানুষ কে? [ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত]

                                


নিয়ত মানস ধামে একরূপ ভাব।
জগতের সুখ-দুখে সুখ দুখ লাভ।।
পরপীড়া পরিহার, পূর্ণ পরিতোষ।
সদানন্দে পরিপূর্ণ স্বভাবের কোষ।।
নাহি চায় আপনার পরিবার সুখ।
রাজ্যের কুশলকার্যে সদা হাস্যমুখ।।
কেবল পরের হিতে প্রেম লাভ যার।
মানুষ তারেই বলি মানুষ কে আর?

নাহি চায় রাজ্যপদ নাহি চায় ধন।
স্বর্গের সমান দেখে বন উপবন।।
পৃথিবীর সমুদয় নিজ পরিজন।
সন্তোষের সিংহাসনে বাস করে মন।।
আত্মার সহিত সব সমতুল্য গণে।
মাতাপিতা জ্ঞাতি ভাই ভেদ নাহি মনে।।
সকলে সমান মিত্র শত্রু নাহি যার।
মানুষ তারেই বলি মানুষ কে আর?

অহংকার-মদে কভু নহে অভিমানী।
সর্বদা রসনারাজ্যে বাস করে বাণী।।
ভুবন ভূষিত সদা বক্তৃতার বশে।
পর্বত সলিল হয় রসনার রসে।।
মিথ্যার কাননে কভু ভ্রমে নাহি ভ্রমে।
অঙ্গীকার অস্বীকার নাহি কোন ক্রমে।।
অমৃত নিঃসৃত হয় প্রতি বাক্যে যার।
মানুষ তারেই বলি মানুষ কে আর?

চেষ্টা যত্ন অনুরাগ মনের বান্ধব।
আলস্য তাদের কাছে রণে পরাভব।।
ভক্তিমতে কুশলগণে আয় আয় ডাকে।।
পরিশ্রম প্রতিজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গে থাকে।
চেষ্টায় সুসিদ্ধ করে জীবনের আশা।
যতনে হৃদয়েতে সমুদয় বাসা।।
স্মরণ স্মরণ মাত্রে আজ্ঞাকারী যার।
মানুষ তারেই বলি মানুষ কে আর?

কে [ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত]

                                                    


বল দেখি এ জগতে ধার্মিক কে হয়,
সর্ব জীবে দয়া যার, ধার্মিক সে হয়।
বল দেখি এ জগতে সুখী বলি কারে,
সতত আরোগী যেই, সুখী বলি তারে।
বল দেখি এ জগতে বিজ্ঞ বলি কারে,
হিতাহিত বোধ যার, বিজ্ঞ বলি তারে।
বল দেখি এ জগতে ধীর বলি কারে,
বিপদে যে স্থির থাকে, ধীর বলি তারে।
বল দেখি এ জগতে মূর্খ বলি কারে,
নিজ কার্য নষ্ট করে, মূর্খ বলি তারে।
বল দেখি এ জগতে সাধু বলি কারে,
পরের যে ভাল করে, সাধু বলি তারে।
বল দেখি এ জগতে জ্ঞানী বলি কারে,
নিজ বোধ আছে যার জ্ঞানী বলি তারে।

মাতৃভাষা [ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত]

                                             


মায়ের কোলেতে শুয়ে ঊরুতে মস্তক থুয়ে
খল খল সহাস্য বদন।
অধরে অমৃত ক্ষরে আধ আধ মৃদু স্বরে
আধ আধ বচনরচন।।
কহিতে অন্তরে আশা মুখে নাহি কটু ভাষা
ব্যাকুল হয়েছে কত তায়।
মা-ম্মা-মা-মা-বা-ব্বা-বা-বা আবো আবো আবা আবা
সমুদয় দেববাণী প্রায়।।
ক্রমেতে ফুটিল মুখ উঠিল মনের সুখ
একে একে দেখিলে সকল।
মেসো, পিসে, খুড়ো, বাপ জুজু, ভুত, ছুঁচো, সাপ
স্থল জল আকাশ অনল।।
ভাল মন্দ জানিতে না, মল মুত্র মানিতে না,
উপদেশ শিক্ষা হল যত।
পঞ্চমেতে হাতে খড়ি, খাইয়া গুরুর ছড়ি,
পাঠশালে পড়িয়াছ কত।।
যৌবনের আগমনে, জ্ঞানের প্রতিভা সনে,
বস্তুবোধ হইল তোমার।
পুস্তক করিয়া পাঠ, দেখিয়া ভবের নাট,
হিতাহিত করিছ বিচার।।
যে ভাষায় হয়ে প্রীত পরমেশ-গুণ-গীত
বৃদ্ধকালে গান কর মুখে।
মাতৃসম মাতৃভাষা পুরালে তোমার আশা
তুমি তার সেবা কর সুখে।।

আমি হব সকাল বেলার পাখি [কাজী নজরুল ইসলাম]

                                             


"আমি হব সকাল বেলার পাখি
সবার আগে কুসুম বাগে
উঠব আমি ডাকি।

"সুয্যি মামা জাগার আগে
উঠব আমি জেগে,
'হয়নি সকাল, ঘুমোও এখন',
মা বলবেন রেগে।

বলব আমি- 'আলসে মেয়ে
ঘুমিয়ে তুমি থাক,
হয়নি সকাল, তাই বলে কি
সকাল হবে নাক'?

আমরা যদি না জাগি মা
কেমনে সকাল হবে ?
তোমার ছেলে উঠবে মা গো
রাত পোহাবে তবে।

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে [কাজী নজরুল ইসলাম]

                                         


আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে–
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।

আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে -
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার – ভাঙা কল্লোলে।
আসল হাসি, আসল কাঁদন
মুক্তি এলো, আসল বাঁধন,
মুখ ফুটে আজ বুক ফাটে মোর তিক্ত দুখের সুখ আসে।
ঐ রিক্ত বুকের দুখ আসে -
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!

আসল উদাস, শ্বসল হুতাশ
সৃষ্টি-ছাড়া বুক-ফাটা শ্বাস,
ফুললো সাগর দুললো আকাশ ছুটলো বাতাস,
গগন ফেটে চক্র ছোটে, পিণাক-পাণির শূল আসে!
ঐ ধূমকেতু আর উল্কাতে
চায় সৃষ্টিটাকে উল্টাতে,

আজ তাই দেখি আর বক্ষে আমার লক্ষ বাগের ফুল হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!
আজ হাসল আগুন, শ্বসল ফাগুন,
মদন মারে খুন-মাখা তূণ
পলাশ অশোক শিমুল ঘায়েল
ফাগ লাগে ঐ দিক-বাসে
গো দিগ বালিকার পীতবাসে;

আজ রঙ্গন এলো রক্তপ্রাণের অঙ্গনে মোর চারপাশে
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে!
আজ কপট কোপের তূণ ধরি,
ঐ আসল যত সুন্দরী,
কারুর পায়ে বুক ডলা খুন, কেউ বা আগুন,
কেউ মানিনী চোখের জলে বুক ভাসে!
তাদের প্রাণের ‘বুক-ফাটে-তাও-মুখ-ফোটে-না’ বাণীর বীণা মোর পাশে
ঐ তাদের কথা শোনাই তাদের
আমার চোখে জল আসে
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে!

আজ আসল ঊষা, সন্ধ্যা, দুপুর,
আসল নিকট, আসল সুদূর
আসল বাধা-বন্ধ-হারা ছন্দ-মাতন
পাগলা-গাজন-উচ্ছ্বাসে!
ঐ আসল আশিন শিউলি শিথিল
হাসল শিশির দুবঘাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!

আজ জাগল সাগর, হাসল মরু
কাঁপল ভূধর, কানন তরু
বিশ্ব-ডুবান আসল তুফান, উছলে উজান
ভৈরবীদের গান ভাসে,
মোর ডাইনে শিশু সদ্যোজাত জরায়-মরা বামপাশে।

মন ছুটছে গো আজ বল্গাহারা অশ্ব যেন পাগলা সে।
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!!

ব্যাচেলার [আজহারুল ইসলাম সোহাগ]

 

ব্যাচেলার কবিতা , আজহারুল ইসলাম সোহাগ, Azharul Islam Sohag


সুখহীন জীবনে
স্বাধীন ভাবে বেচে থাকা।
শধু বসে বসে কল্পনার
ছবি আঁকা।
অবসরে আড্ডায় মেতে থাকা।
সবকিছু সিরিয়ালে
সেরে নেওয়া।
যখন খুশি তথন
গেহ ফেরা।
আলস্যের ঘুমেতে
মাতাল হয়ে পরে থাকা।
ঘুমেতে মাতলামির ভাব ধরা।
কিছু হাসি, কিছু দু:থ, কিছু বেদনা,
জীবনের সঙ্গি করা।
ভাবনা চিনতা এ জীবনের,
অকসান করে শেষে যাবে;
বসে বসে দিন গোনা।
এটা সেটা কতই
আর কিছু দরকার কি?
ভাত রেধে হয়ে যায় জাও!
ধৌতে গেলে  পাচ জনের চাল;
ঘয়ে যায় দু’জনের ভাত।
তরকারি কোনটাতে লবন বেশী।
কোনটা খেলে মনে হয়;
আগুন লেগেছে বুঝি।
তাই শেষে বাধ্য হয়ে
ডিম ভাজা খায়।
আলু গুলো টিপতে গিয়ে
দেখে শেষে ডিমটা পুড়ে গেছে।
এ কপালে বুঝি আর
স্বাধ নাই ভাল রান্নার,
এ জীবনে।
পুড়া-টরা বাঝি-বোঝি
এটা ওটা সেটা ঝোটা
খেয়ে খেয়ে কোন রকম
কাজে যাওয়া।
এ ব্যাচেলারের নিত্য
পাওয়া।

মধ্যবাড্ডা ঢাকা
৩ জৈষ্ঠ, ১৪১৪

আমরা সেই সে জাতি [কাজী নজরুল ইসলাম]

                                         


ধর্মের পথে শহীদ যাহারা আমরা সেই সে জাতি।
সাম্য মৈত্রী এনেছি আমরা বিশ্বে করেছি জ্ঞাতি।
আমরা সেই সে জাতি।।

পাপবিদগ্ধ তৃষিত ধরার লাগিয়া আনিল যারা
মরুর তপ্ত বক্ষ নিঙ্গাড়ি শীতল শান্তিধারা,
উচ্চ- নীচের ভেদ ভাঙ্গি দিল সবারে বক্ষ পাতি।
আমরা সেই সে জাতি।।

কেবল মুসলমানের লাগিয়া আসেনি ক ইসলাম
সত্যে যে চায়, আল্লায় মানে, মুসলিম তারি নাম।
আমির- ফকিরে ভেদ নাই সবে সব ভাই এক সাথী
আমরা সেই সে জাতি।।

নারীরে প্রথম দিয়াছি মুক্তি নর- সম অধিকার
মানুষে গড়া প্রাচীর ভাঙ্গিয়া করিয়াছি একাকার,
আঁধার রাতের বোরখা উতারি এনেছি আশায় ভাতি।
আমরা সেই সে জাতি।।

হৃদয় ভাঙ্গার তরণী [আজহারুল ইসলাম সোহাগ]

 


পদ্ম , মেঘনা , যমুনা, যত নদ নদীর নীরে;
তরণীরা পাল তুলে সাতার কাাঁটে।
ঝটিকা হাওয়ায় কাল বশেখি ঝড়!
ধুনি, নদের তোয় করে ঝরমর।
কেহ জানেনা কভু আসিবে তার অমানিষা!
ঘিড়ে ফেলিবে সর্বত্র যা মহানিষা।
ভেঙ্গে যাবে অর্থ সমাজ পরিবার হবে বেদিশা!
দেশ হাড়াবে তার পুন্য সন্তান, হারাবে আশা!
বাবা হাড়ায়ে তার ছেলেকে, মা হাড়ায়ে সন্তান;
মা শোকে পাথর হয়ে , বাবা করিবে দাফন,
আর আসিবেনা তার , ফিরে সন্তান , কোন জনমে!
বাবা –মা বলে ডাকিবেনা আর ডাকত যেমনে।
বাবা আসিবেনা ফিরে সন্তানের কাছে!
মা, স্বামী শোকে পাগল হয়ে নাঁচে,
ছেলে বাবাকে হাড়ায়ে পরিবার হল অচল,
মা দতি পরে কামড়ায় আচল!
দু’চোখের অশ্রু ঝরে, করে টলমল!
মা এখন বাবার শোকে হয়েছে পাগল,
ছেলে ধরেছে হাল, পারেনা আর;
ভেঙ্গে পরে দুবাহু ক্লান্তিতে হাহাকার।
মা নেই বেঁচে ছেলে কাঁদে কষে!
নিয়েছে ঐ মেঘনা, যমুনা, পদ্মা, ধরা হতে মুছে!
বোন কাঁদে মার তরে, ছেলে হাড়ায়ে মাকে
অশ্রু ঝড়ে পরে আখি থেকে ঝাকে ঝাকে,
বাবার চোখে লেগেছে নিষা দেখে সংসারের হালচাল;
কোথা থেকে কি যেন হয়ে গেল, করে দিল বানচাল।
নিয়েছে মেয়েকে কেড়ে পদ্মার জ্বলে;
আসিবেনা আর ফিরে মোদের নীড়ে!
মেয়ে হাড়ার ব্যাথায়, ভাই পাগল হয়ে যায়।
কি নিদারুণ দৃষ্য চোখে ভাসে হায়।
কোন পরিবার সবি গেল ভেসে!
প্রদীপ জালাবার সংসারে নেই কেহ পাশে;
মেয়ের জন্য নানু কাঁদে, বোনের জন্য মাসি।
নাতি হাড়া বেদনায় নানা যেন নেই ফাঁসি!
মামা কাঁদে , কেঁদে করে হাহাকার
কে যেন তারে করেছে অবিচার,
নই তা, সোহাগের ছোট বোন হাড়ায়ে
কাঁদে কাঁদে সারা গ্রাম জড়ায়ে।
আতœীয় স্বজন বড় আপন জন,
তাদের হারাবার ব্যাথায় কাঁদেনা কোন মন?
তরী পার হবে তোরা হয়ে সাবধান,
ভরা করে নিলে হওয়া থাকে অম্মান;
ডোবিয়া মরিবি তবে না রাখিলে তরীভার।
এমনি মরিরব তোরা নাই আর নিস্তার।
দিন দেখে গান শোনে তব নাও চালা;
হয়ত থাকিবেনা আর কোন বুকে জ্বালা।
যাত্রী ভরা করে ক্ষণ পয়সা লোভে
ডোবিলে ঐ মাঝ দরিয়ায় কি লাভ হবে?
নিমেষে সিক্ত হবে তোর কোটি জাহাজ।
থেমে যাবে তোর উপার্জনের কাজ।
নাবিক আর যত নৌচারি হও সাবধান;
সময় মেনে চলে বাঁচাও আপন প্রাণ।

গাবতলী নরসিংদী
৫ ফাল্গুন ১৪১৪